রাজশাহী-৬ (চারঘাট – বাঘা) ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৪২টি, ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা সংযোজন
আব্দুল মান্নান;বিশেষ প্রতিনিধিঃ রাজশাহী-৬ বাঘা-চারঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৯টি। এর মধ্যে বাঘা উপজেলায় ৬১টি, চারঘাট উপজেলায় ৫৮টি কেন্দ্র রয়েছে। দুই উপজেলায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৪২টি। ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক ঝুঁকি পর্যালোচনা-বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বাঘা উপজেলায় দুর্গম ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ২৪টি। উপজেলা থেকে সবচেয়ে দূরের দুর্গম চর এলাকার চকরাজাপুর ইউনিয়নটির ৯টি কেন্দ্রের সব কয়টিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ার সীমান্ত ঘেঁষা এই ইউনিয়নের আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি।
চারঘাটে উপজেলায় ৫৮টি কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে অধিকগুরত্বপূর্ণ ১৮টি। এরমধ্যে নিমপাড়া ইউনিয়নে ১১ টি কেন্দ্রের ৮টিই অধিকগুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে কম গুরুত্বপুর্ণ ইউসুফপুর ইউনিয়নের সবকয়টি কেন্দ্র।
দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইতোপূর্বে গোলযোগ হয়েছে কিনা, প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ি,রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী,অফিস, সীমানা প্রাচীর অথবা অপরাধ করে দ্রুত সটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এসব বিবেচনায় নিয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তালিকা করা হয়েছে।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন ঘিরে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মাঠ প্রশাসনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভোট কেন্দ্র এবং ভোটের সরঞ্জামের নিরাপত্তায় রয়েছে আলাদা নজরদারি। ভোটের ক্ষেত্রে হুমকি হতে পারে-এমন ব্যক্তিদের নজর রাখছেন পুলিশসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৬ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯১১ জন, হিজরা-২।
আসনটিতে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আবু সাইদ চাঁদ (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাজমুল হক(দাড়ি পাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আব্দুস সালাম সুরুজ(হাতপাখা), জাতীয় পাটির ইকবাল হোসেন(প্রতীক লাঙ্গল)।
আনুষ্ঠানিক প্রচারণাকালে উৎসবমুখর পরিবেশে গণসংযোগের পাশাপাশি মিছিল, সভা-সমাবেশ ও জনসভা করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে ছিল মাইকিংও। তবে এবার পোস্টার বিহীন প্রচারণার সেই ঘাটতির কিছুটা পূরণ হয়েছে প্রার্থীদের টানানো বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে। প্রচারণায় এগিয়ে ছিল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী।
সহকারি পুলিশ সুপার (বাঘা -চারঘাট সার্কেল ) খালেদ হোসেন জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজাতে ভোটকেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ,গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণসহ তিন ভাগে ভাগ করা হয়। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পুলিশ-আনসারের সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
বাঘা উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, এবারের ভোট সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে কেন্দ্র ভিত্তিক সমস্যা চিহিৃত করে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যা আগে কখনও হয়নি। কেন্দ্র ভিত্তিক প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য একজন অস্ত্রধারি আনসার, ভোটকেন্দ্রে যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন তাদের প্রশিক্ষণ, ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা সংযোজন এবং পুলিশের শরীরে ‘বডি ক্যামেরা’ সংযোজন থাকবে।







