
চিফ রিপোর্টার:ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, একটি স্বৈরশাসনের পরবর্তী বাস্তবতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বৈষম্যহীন, মানবিক, উদার ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সুস্পষ্ট সংস্কারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
আজ দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেখতে পান—নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক, পেশাগত ও কাঠামোগতভাবে দুর্বল এবংকর্মপরিকল্পনাগুলো ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে গত ১৬ মাসে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং মন্ত্রণালয়ের কাঠামো পুনর্গঠন করে সুশাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেন। এই সময়ে মন্ত্রণালয়ের যে দৃশ্যমান অর্জন হয়েছে, তা দেশবাসী ইতোমধ্যেই অবগত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিরসনে ‘পাশে আছে’ প্রকল্পের আওতায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা সর্বক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও আশ্রয় সুবিধা পাচ্ছেন।
জুলাই কন্যাদের সনাক্তকরণ, সংখ্যা নিরূপণ, জীবনের গল্প সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাভিত্তিক নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বর্তমান বাস্তবতার আলোকে জেন্ডার সমতা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি অপরিহার্য শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিদ্যমান কাঠামো রূপান্তর করে ‘জেন্ডার সমতা উৎকর্ষ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম অনুমোদন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত খসড়া আইন ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রণয়নের মাধ্যমে যৌন ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এসব আইনের মাধ্যমে নারী ও শিশুর অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নারী ভোটারদের সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং তা মনিটরিং করার বিষয়টিও তুলে ধরেন উপদেষ্টা।
সমাজকল্যাণ খাতের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ভাতাভোগীদের ভাতা বৃদ্ধি, অসহায় ও দুস্থদের ভাতা সম্প্রসারণ, মাদ্রাসার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বৃদ্ধি, ক্যান্সার রোগীদের ভাতা বৃদ্ধি এবং জুলাই যুদ্ধে আহতদের চিকিৎসা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ সময়ে প্রণীত কর্মপরিকল্পনাগুলো ভবিষ্যতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বাস্তবায়ন করবেন এবং এর ধারাবাহিকতায় সমাজকল্যাণ ও নারী-শিশু সুরক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত হবে।









