আউটার এ্যাঙ্কেরেজে আগত মাদার ভেসেল হতে পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা আনয়নে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের গঠিত টাস্ক ফোর্সের কার্যক্রম সংক্রান্ত
চিফ রিপোর্টার:ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
সারাদেশের নদীবন্দরগুলোতে লাইটার জাহাজের জট কমতে শুরু করায় সচল হয়ে উঠেছে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে অভ্যন্তরীণ নৌপথে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে কতিপয় আমদানিকারক কর্তৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মালামাল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত লাইটার জাহাজসমূহকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করার কারণে নৌপরিবহন সেক্টরে কৃত্রিম জাহাজ সংকট দেখা দেয়। যার ফলে বাংলাদেশে আগত পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে মালামাল খালাস করার জন্য প্রয়োজনীয় লাইটার জাহাজের সংকট দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে আমদানিকৃত পণ্য খালাসে বিঘ্ন ঘটায় স্বাভাবিক পণ্য সরবরাহ ব্যাহত এবং অত্যাবশকীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত ১৪ জানুয়ারি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ শফিউল বারী, (এনডি),ওএসপি, এনডিসি, পিএসসি, বিএন এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও যশোরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এছাড়াও, উক্ত টাস্কফোর্স পরিচালনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। গত ১৫ জানুয়ারি হতে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী, ঢাকার বুড়িগঙ্গা, মুন্সিগঞ্জের মেঘনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এবং যশোরের নোয়াপাড়ার ভৈরব নদীতে এই টাস্কফোর্স নিয়মিত কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে দেখা যায় যে, আকিজ গুপ, এস এস ট্রেডিংসহ কিছু সংখ্যক পণ্যের এজেন্ট/আমদানিকারক গম, ভুট্টা, ডাল, ছোলা, সয়াবিন, সার ও কয়লাভর্তি লাইটার জাহাজগুলোকে ২০-৩০ দিন পর্যন্ত নদীপথে বসিয়ে রেখে পণ্য খালাসে বিলম্ব করছিল। এমন অসাধু তৎপরতার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে পণ্য খালাসে গতিশীলতা পরিলক্ষিত হয় এবং অপেক্ষারত লাইটার জাহাজসমূহের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ দিনে প্রায় ১১৯৫টির বেশী লাইটার জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জাহাজ সংকটের কারণে থমকে থাকা পণ্য পরিবহনকে বেগবান করেছে। গত জানুয়ারি মাসে ‘খাদ্য মালামাল নিয়ে সাগরে ভাসছে ৬০০ লাইটার জাহাজ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নৌপরিবহন অধিদপ্তর এই তদারকি জোরদার করে। আজ ০৯ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন নদীবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, মালামাল নিয়ে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসেছে। বর্তমানে, ১০ দিনের অধিক অপেক্ষারত লাইটার জাহাজের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোটায় এসে পৌঁছেছে। লাইটার জাহাজ চলাচলে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উদ্যোগে গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে একটি অত্যাধুনিক মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে লাইটার জাহাজসমূহের চলাচল ও অবস্থানের সময় সহজেই মনিটরিং করা সম্ভব হবে। এতে করে লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহারকারী অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা রোধ হবে বলে আশা করা যায়। এছাড়া, লাইটার জাহাজের সংকট পুরোপুরি নিরসন না হওয়া পর্যন্ত এবং আসন্ন রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে এই বিশেষ অভিযান ও তদারকি নিয়মিত চলমান থাকবে।






