২১দফা দাবি নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ
(চার ঘণ্টা অচল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক)
-সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত
মোঃ হারুন অর রশীদ,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল এর কর্মচারীরা তাদের২১দফা দাবি আদায়ের জন্য আজ সকালে রাস্তার নামেন।এ সময় তারা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এর প্রধান ফটকে তালা দিয়ে কালিয়াকৈরের বোর্ড ঘর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেয়।প্রতিষ্ঠানটির সম্মুখে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা কোন যানবাহন ঢাকার দিকে যেতে পারেনি।
মহাসড়ক অবরোধের ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়,ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার ঢাকা গামী ও ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ গামী যাত্রী। সংবাদ পেয়ে গাজীপুর থেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জাইয়ানের নেতৃত্বে একদল সেনাবাহিনী ও কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ এ এফ এম নাসিম সহ কালিয়াকৈর থানা পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিক্ষুব্ধ কর্মচারীদের সাথে কথা বলে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার ভিতরে প্রবেশ করেন।
দীর্ঘ সময় কোম্পানির কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা করার পর কারখানার শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন।বেলা সাড়ে দশটার দিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলেও তারা সবাই কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সেনা ক্যাপ্টেন জাইয়ান হ্যান্ড মাইকে আন্দোলনরত কর্মচারীদের এই বলে আশ্বস্ত করেন যে,”আমি ক্যাপ্টেন জাইয়ান- গাজীপুর থেকে এসেছি আপনাদের প্রতিনিধি এবং কোম্পানির কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে ,একটি যৌক্তিক সমাধানের রাস্তা খোঁজা হচ্ছে,খুব শীঘ্রই একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছতে পারব। আপনারা বিশৃঙ্খলা করবেন না শান্ত থাকুন”
এ সময় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে চিৎকার করে বলা হয়-অন্তরালে কোন আলাপ আলোচনা মেনে নেয়া হবে না, এমডি স্যারকে আমাদের সামনে এসে দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মচারীর “স্বদেশ প্রতিদিন”কে বলেন,এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়ার পর অনেকেরই ৫-১০ বৎসর চাকরির বয়স হলেও আমাদেরকে স্থায়ী করণ করা হচ্ছে না।”
ডেইলি বেসিক”হিসেবে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।পরিবারের কোন অসুবিধা বা শারীরিক কোন অসুখ-বিসুখে একদিন কাজে আসতে না পারলে এক হাজার টাকা হাজিরা বোনাস কেটে নেয়।যারা স্থায়ী হিসেবে কাজ করছেন তাদেরকে কোম্পানির তরফ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করলেও আমরা যারা অস্থায়ী রয়েছি তাদের কোন খাবারের ব্যবস্থা করা হয় না।
এছাড়া কর্মচারীরা আরো অভিযোগ করে বলেন,এই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অধস্তন কর্মচারীদের উপর বৈষম্যমূলক আচরণ করেন।এইসব দাবি সহ২১টি দাবি নিয়ে তারা আন্দোলন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলন কারীদের পক্ষে কয়েকজন সমন্বয়কারী মুঠো ফোনে জানান,কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে,অধিকাংশ দাবী মেনে নিচ্ছেন, চূড়ান্ত ঘোষণা শোনার জন্য বিকেল তিনটা নাগাদ ওই কারখানার কর্মচারীরা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছেন।